কাব্যকণ্ঠ

Home » কবি ও কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ » প্রতিটি স্বপ্ন ছিল উদ্বেগের, ভয়াবহতার

প্রতিটি স্বপ্ন ছিল উদ্বেগের, ভয়াবহতার

কাব্য আর্কাইভ

রাহুল পুরকায়স্থ

pia-1.jpgতিনি পেলেন; না পেলেই-বা কী যেত-আসত তাঁর, তাঁর কবিতার! কেন না তথাকথিত খ্যাতি, যশ তাঁর কবিতাকে, লেখালেখিকে অনেকদিন আগেই ছেড়ে গেছে, যেমন যায়; যশহীন কবিতারা দিগন্ত রাঙায়, আর ওই দিগন্তের দিকে চারপাশে চোখ বোলাতে বোলাতে খাটো পায়জামা-ফতুয়ায় হেঁটে উৎপালকুমার বসু। কবি উৎপল কুমার বসুর নাম এতদিনে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় উঠে এল, উঠে এল!

মূক তুমি তাকিয়ে রয়েছ ঠাণ্ডা ভাতের থালার দিকে।/কী দেখছ, তুমি জানো আর জানে আধ-হাতা ডাল/ নূনের সঙ্গে ভিজে মাখামাখি, চালে হলুদ কাঁকর।/ধানের পোড়াটে খোজা, তুমি জানো যথার্থই জানো।/এদের ভিতর কোন সাংবিধানিক দূতীপনা খেলে যাচ্ছে–।/মেলা ছক, গূঢ় আঙুল বাঁকানো এক তুখোড় ছক্কাদান। /লাল গুটি এগিয়ে চলেছে তার মরুভূমি দিয়ে
লাল ঝোল গড়িয়ে পড়ছে ঐ মাছটুকু ঘিরে। /গ্রামের আগের মুহুর্তে ঠিক যে-ঘার মতন/নিজের বিশ্বাসে কাঁপছে–ভাত, ঝোল, নূনের আঙুল।/যে বিশ্বাসে কাঁপে নীল গুটিগুলি লাল খেলা ঘরে।

১৯৮২ তে প্রকাশিত লোচনদাস কারিগড় কাব্যগ্রন্থের এই কবিতাটির নাম সুই লুডো-খেলা।
গত ৩০/৩২ বছর তো হবেই। আমি নিয়মিত লক্ষ করে চলেছি উৎপলকুমার বসুকে। উৎপলকুমার বসুর লেখালেখিকে। আমাদের চারপাশে, আমাদিগের চারিপাশে পড়ার মতো বাংলা সাহিত্য প্রতিদিন কতই না রচিত হয়ে চলেছে। কিন্তু লক্ষ করার মতো?

সবিনয়ে জানাই, যেদিন থেকে আমি সামান্য লেখালেখির চেষ্টা করে আসছি, আমি হারিয়ে ফেলেছি আমার পাঠকৌমার্য্য। আরও লক্ষণীয় এই যে আমি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছি একজন আত্মসর্বস্ব নিরীক্ষক মাত্র। যে নিরীক্ষণ বিলুপ্তপ্রিয় আমি শাহী ও বিচরনশীল। জটিল ও কুয়াশাবৃত ভূমিশয্যাই যার আরাধ্য। সৌরবৃন্ত মুখে ছুটে চলা বরাহে নিহিত যার অভিপ্রায় এবং যার চোখের সামনে ভাসমান লেখার টেবিল ও দেখার টেবিল।

এই সমস্ত মনোসংযোগঘটিত ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই আমি বার বার ঢুকে পড়ি উৎপলকূমারের ভাষা পৃথিবীতে। এই যেমন এখন। আমার সামনে এখন একাডেমি-পুরস্কৃত কবিতার বইটি। পিয়া মন ভাবে। কাব্য গ্রন্থের নামকরণে উৎপলদা তাঁর কবিতার মতোই তীক্ষ্ম ও তীব্র। যতদিন নিজের কবিতার নাম দিয়েছেন সেক্ষেত্রেও প্রায়শই লক্ষ করতাম, প্রায় অর্থহীন জীবনের শ্রম ও সংকট থেকে নির্মাণ করে চলেছেন মায়াকাননের ফুল! লক্ষনীয় এটাও যে যত এগিয়েছেন প্রায় সম্পূর্ণ সরে এসেছেন কবিতার নামকরণ থেকে। ফলে লাভ হল আমি-পাঠকের। আর কবিতাও মুক্ত হল নামের কামনা বাসনা থেকে।

সে যাক, পিয়া মন ভাবেতে আপাতত ফিরে আসি। মোট ৬৪ টি কবিতার এই বই। প্রচ্ছদ হিরন মিত্রর। মলাট থেকেই যেন কবিতার যাত্রারহস্য। আর এই রহস্য নির্মাণে উৎপল-হিরণ জুটির তুলনা নাই। আমরা যারা উৎপলদকে কিছুটা জানি, তারা এও জানি যে বইয়ের মলাট নিয়ে চিন্তা ভাবনার কথা। অলিম্পিয়ার এক দ্বিপ্রহরের আড্ডায় প্রজিত জানা আর আমাকে সবিস্তারে জানিয়েছিলেন তাঁর মলাটভাবনা। তাঁর মতে, কবিতার বাস্তবতাকে ভেঙে ফেলার জন্যই প্রচ্ছদেও সৃষ্টি। পিয়া মন ভাবের প্রচ্ছদে মন শব্দটি অধিক রক্তাম্বর। কেননা এই মন শব্দটির উপর দিয়ে একটি রক্ত আকৃতির লাল বর্ণ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১১-র জানুয়ারিতে বইটির প্রথম প্রকাশ। বইটির পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে ১০ সংখ্যক কবিতায় এক দগ্ধ উপনিবেশের পাখির ডাকে যেন আমার পরিপার্শ্ব রঙিন হয়ে উঠল। বসন্ত বাতায়নে যেন আগুনের হিল্লোল। লোচনদাস নামে কারিগরটি যেন অধিক স্পষ্ট। আরও স্বচ্ছ উৎপল কুমারের কবর কুন্ডল সেই ফ্যালাসি, যে ফ্যালাসি নির্মাণ করে এক দ্বন্দ্বের, শূন্যতার দ্বন্দ্বের। আমন্ত্রণ এল–
পেরেক ও সুতোয় বাঁধা এই চারদেয়ালের ঘর/আমাদের অস্ত্রের দোকান–/এখানে মাটির নিচে গোলাবারুদের স্তুপ। /কলহের কোপন দেবতা হেথায় আসীন।/এসো একদিন, চা-বিস্কুট খেয়ে যেও,/বৌ-বাচ্চা সঙ্গে এনো, যদি ইচ্ছে হয়,/তোমাদেরই জন্য, বন্ধু, এত আয়োজন,/এত উপাচার, এত অস্তিত্ব সংকট।’

অস্তিত্ব সংকট। উৎপলকুমারের কাব্যভাবনার গর্ভগৃহ। কিন্তু সম্ভবত এই প্রথম ‘সংকট’ সরাসরি তার কবিতায় শব্দরূপে। অস্তিত্ব ও সংকটের এই সমন্বয় প্রতিক্রিয়াশীল, অবশ্য উৎপল কুমারতো কবিতাকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী পদ্ধতি হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন বহু আগেই। একটি গদ্যে তিনি জানাচ্ছেন–“… আমরা জানি কবিতা, পাঠক এবং কবির মধ্যে এক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী পদ্ধতি। এই পদ্ধতি-কেন্দ্রিক চরিত্রের জন্য কবিতায় ব্যাকরণ, শৈলী এবং নশ্বরতা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে, প্রতিক্রিয়ার জন্মদাত্রী বলে কবিতায় প্রাণ আরোপিত হয়। কবিতায় আমরা প্রায়শ স্বপিত বস্তু বা ‘অরগ্যানিক’ অস্তিত্বের চিহ্ন দেখে থাকি। এই দুই কেন্দ্র, অর্থাৎ বস্তু ও প্রাণ, ব্যাকরন ও বিদ্রোহ, শৈলী ও প্রথামুক্তিতে জুড়ে রয়েছে এক পেতু যার নাম নশ্বরতা। কবিতার মৃত্যু হয়। লুপ্ত হয় তার ভাষা, সংকেত, উপদেশ ও কলাকৈবল্য …।”

border=0কবিতার প্রাণ আরোপিত। উৎপলকুমারের চিন্তাবীজ। ফলত প্রাণ সঞ্চারের কৃৎকৌশল, জরিপপ্রণালী, অনুবীক্ষণ ও দূরবীক্ষণ যন্ত্র, যন্ত্রবিদ্যা, গুনছুঁচ, মৃৎপাত্র, হাপর ও হাতিনা, অনিশ্চিত রেল ডাক, হস্তচালিত প্রাণ তাঁত সেই আধো জাগ্রত মেশিনলুম, এমনকি ব্যবহৃত দস্তানাও ডিসেম্বরের শীত রাতে ফিরে ফিরে আসে আমি-পাঠকের সংকটের অস্তিত্বে, পাঠে প্ররোচণা দেয়। আর আশ্চর্য আমি লক্ষ করি, যে কবির ব্যবহৃত দস্তানায় করছাপ জেগে আছে! আমি পুনরায় ফিরে যাই ওই ১০ সংখ্যক কবিতাটিতে। কয়েকটি শব্দের নিচে আমি লাল পেন্সিলে টানি। অস্ত্রের দোকান, গোলাবারুদের স্তুপ, কলহের কোপন দেবতা। পেরেক ও সুতোয় বাঁধা চারদেয়ালের ঘরকে এই শব্দগুলিই যেন আরও রঙিন করে তুলল। সন্ত্রাস-রঙিন। এত উপাচার প্রস্তুত করে তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানালেন ঘরে। আমি প্রবেশ করলাম। কিন্তু অবাক! ঘর কোথায়! এতো দিগন্ত বিস্তৃত এক প্রান্তর! প্রান্তর-প্লাবিত উৎপলকুমার বসুর ব্যক্তিগত রণবিদ্যায়, প্রান্তর-রঞ্চিত তাঁর ব্যক্তিগত জাদুপটে। তবে কি কোনো ঘরে নয়, আপাতত এক তোরণ অতিক্রমের প্ররোচনা, লৌকিক হাতছানি, বাস্পীয় অনুঘটক এই কবিতাটি! আশ্চর্য। আবার ভুল হল!

আমি চাই যে পাঠক তার প্রাণপন চেষ্টা করুক। পাঠকের সঙ্গে সবসময় আমার একটা দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক থাকে। আমি একটা জিনিস তৈরি করে পাঠককে দিলাম, আর সে খেয়ে নিল। সেটা আমি চাইনা। আমি চাই যে সে নিজেও কিছু কন্ট্রিবিউট করুক। সে নিজেও তৈরি করুক। আসলে এটা আমাদের যৌথ, দ্বৈত উদ্যোগে লেখা একটি কবিতা।’

বাংলাদেশের দুই কবি জহির হাসান ও জহির হাসান মাহমুদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমনটাই জানিয়ে ছিলেন উৎপলকুমার, ২০০৬-এর ৩ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায়। সদাভ্রাম্যমান এই কবি, কিন্তু অবিচল তার এই দর্শনে, পাঠকভাবনায়। যৌথক্রীড়ায় আমিও সম্মোহিত। তবে কি পিয়া মন ভাবের এই ১০ সংখ্যক কবিতাটিই এই গ্রন্থের প্রবেশতোরণ? তবে সূচনা কবিতা আর সূচনা কবিতা-পরবর্তী ৯টি কবিতা? তাদের অস্তিত্ব! তারা তো আছেই নিজ নিজ স্থানে। তোরণে পৌঁছানোর আগে পথপাশে, পথমধ্যে কিছু কিছু চিহ্ন ও সংকেতের প্রয়োজন হয় যারা প্রবেশকারীর মনে একটা আবহ তৈরি করে, অবচেতনায় এসে লাগে সমুদ্রের বাতাস, মন বলে–কাছেই সমুদ্র। এখানে নিজেকেই প্রশ্ন করি, তোরণে প্রবেশের পূর্বে তুমি কী কী অতিক্রম করলে হে পাঠক? পিয়া মন ভাবে আমাকে আবার আগ্রহী করে। প্রবেশ পথে আমার লক্ষ্যে আসে কয়েকটি পংক্তি, কিছু শব্দ আর একটি গোটা কবিতা।
স্মরণাতীত তুমি আমার স্মরণ, সাত সমুদ্রের লবণস্বাক্ষর, ইদানীং ধরা পড়ে যাই চিহ্নের বাগানে, দূর থেকে অতীত চিনেছি, বরিষণব্যাকুল, আনন্দিত মানুষজনের পিঠে ডানা দেখা যায়। প্রমিতি হে, ফিরে আসি পুরোনো খাটের পাশে—
আমাকেও নিশ্চয়তা দান করো।

এই সকল শব্দ ও পংক্তি কখনও কখনও মাইলফলক, রাস্তার দু’পাশে আবছায়া জনপদ, ল্যাম্প পোস্টের খুঁটি, পথমধ্যে রোদ খাওয়া পাটের দুপুর, কিম্বা প্রায় জনশূণ্য গ্রামের একা ডাকঘরের কথা মনে করিয়ে দিলেও একটি কবিতায় এসে বোধ হয় রননিমিত্ত হৃদয় আমার। কেননা ওই কবিতাটিই তোরণে পৌঁছবার কয়েক স্টপেজ আগে এক গুপ্তসংকেত। আমি কি তবে ছোট বকুলপুরের যাত্রী! তোরণ থেকে কিছুটা পিছিয়ে আবার ওই ৩ সংখ্যক কবিতায় প্রবেশ করি।
‘এই তো এসেছি ফিরে গান থেকে, স্বপ্নলোক থেকে–/আপনাদের দোতলা বাড়িটি দ্রুত ভেঙে পড়ছে তারই/সুসংবাদ নিয়ে– ধ্বংস্তুপের ভিতরে দাঁড়িয়ে আমি/পুরনো দিনের গান যে সব শুনেছি তার কিছু কি/শোনাতে পারি? ঐখানে বহুতল আবাসন উঠবে/এমনই তো লোকে বলছে– সাঁতারের জল থাকবে,/ ফুলের কেয়ারি চাই, ছোটদের দোলনা তো থাকবেই–/শুধু থাকবে না গান আর স্বপ্নলোক আর মানুষের ভুলভ্রান্তি।’

pia-3.jpgআমি পুনরায় প্ররোচিত, যদিও আমি মানি, কবিতার তথাকথিত সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই। উৎপলকুমারও এই দায়বদ্ধতা কোথাও স্বীকার করেছেন বলে মনেও পড়ে না, তবু কোথাও কি তিনি প্রশ্ন ও সন্দেহে বিদ্ধ করছেন না আমার সামাজিক বাস্তবতাকে? যদিও তিনি তাঁর কবিতায় কিছু কিছু ফাঁক রাখেন। তিনি চান, পাঠক যে যার মতো করে ওই ফাঁকগুলো ভর্তি করে নিক। আর সেই জন্যই তাঁর রচনার মধ্য থেকে মাঝে মাঝে খোঁজ মেলে এক একটি গুপ্ত অস্ত্রভান্ডারের, আমি আকস্মিকতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ি। আকস্মিকতার বাঘনখে। উৎপল কুমার বসুর রচনাপ্রকাশও তাঁর এই ব্যক্তিগত রণনীতির আরও একটি পাঠ। সামান্য কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সমস্ত বই প্রকাশিত হয়েছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, তথাকথিত প্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্যবাণিজ্যের বিপ্রতীপে চটি চটি কবিতার বই একের পর এক প্রকাশ করে গেছেন, প্রকাশে উৎসাহ দিয়েছেন, আর বলাই বাহুল্য এই ধরনের প্রকাশে তিনি অনুসরণ করেছেন অগ্রজ কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। আপাতত পুনরায় পিয়া মন ভাবে

তোরণ পেরিয়ে আসি, চমকপিচ্ছিল পথ, পথে পথে স্মৃতি ও শূন্যতা, যদিও উৎপলকুমার একজন খোদিত ইমপেরিসিস্ট। যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, তাতে তার মনের সায় নেই। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এক স্মৃতি ও শূণ্যতায় তিনি হেঁটে আসছেন। মাঝে মধ্যে পকেট থেকে ছোট্ট নোটবই বের করে টুকে নিচ্ছেন কিছু কিছু পথচিহ্ন, যাকে তিনি রিয়েলিটির মাল মশলা বলতে ভালোবাসেন।
‘যখন দেবতা-দূত সামনে আসে, মিথ্যে কথা বলে–/আমি তো প্রত্যেকদিন, সকাল-বিকেল, তাদেরই/প্রত্যক্ষ করি, ঘরে ও বাহিরে, ভীত আমি, নিষ্ঠুর/আশ্রয় চাই এই কবিতার সত্যবাদিতায়,/ঐ নীল আকাশের বৃষ্টিহীন সংলাপে।’

‘নশ্বরতা, তাই চায় প্রাণ,’–এই উৎপলকুমারকে পড়েছিলাম প্রায় ২০ বছর আগে। আর আজ উৎপলকুমারকে পড়ছি এই– ‘আশ্রয় চাই কবিতার সত্যবাদিতায়।’ উৎপল জানেন, কবিতা নশ্বর, আর তাই নশ্বর কবিতার সত্যবাদিতা,’। তবে কি উৎপল কুমার বসুর কবিতা কোথাও স্থির হয়ে রইল? আমার মনে হয়, না, তিনি হেঁটে আসছেন অবিনশ্বরতার চিহ্নসমূহের মধ্যদিয়ে, যত আসছেন তত প্রগাঢ় হচ্ছে তার নশ্বরতার দর্শন, কেন না প্রগাঢ়তর অবিনশ্বরতার আলো। যেমন ভয়–
‘যাদু গণিতের বইটি পাশব শোণিতে প্লাবিত হতে পারে।/– এই ভয়ে জামার আড়ালে তাকে লুকিয়ে রেখেছি,? /বস্ত্রের বেড়া দিয়ে সুরক্ষা দিয়েছি, যেভাবে যত্ন পায়/হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, বৃক্ক ও ধমণী,’।

ওই উৎপল চলেছেন, পিয়া মন ভাবের উৎপল, কুয়াশার গাছে গাছে কোকিল ডাকছে, তিনি শুনছেন প্রশ্ন রাখছেন, কী যাবে রঙিন মাছ? কী খাবে ঘরে পোষা চিতা? দেখছেন, ভাতের উঞ্চতায়, উঠোনের বিভাজনে রোদ এসে পড়ে। হাঁসভর্তি পুকুরের জলে তিনি পরিচিতদের সঙ্গে নাইতে নামছেন–
‘শুধু পাড় থেকে পৌরাণিক যাত্রার রাম ও রাবণ/ সকলকে দেখছে/ তারা এ-গাঁয়ে নতুন– কিছুটা অনিশ্চয়, কিছুটা বার্তাহীন,/
হাতে তারা স্বর্গের ফুল ধরে আছে,/ঐ ভাবে তারা/ নিজেদের অমরত্ব ঘোষণা করছে।’

লোচনদাস নামের কারিগর আজ আরও অলংকারহীন।

সৌজন্যেঃবিডিনিউস২৪.কম


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: